By Khandaker A. Raquib

This article is a part of the ongoing Subichar Workshop: Trials in Revolutionary Transition.

এই বইটা হচ্ছে পেরুর রাষ্ট্র তাদের দেশে যে লার্জ স্কেলে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং একই সঙ্গে যে গুমের ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোকে রাষ্ট্রের তরফ থেকে কিভাবে ম্যানেজ এবং কন্ট্রোল করা হয়েছে সেটা নিয়ে। এখানে খুবই ইন্টারেস্টিং এবং থট-প্রোভোকিং কিছু ইন্টারভেনশন করেছে লেখক ইজাইয়াস।

তো আমি বইটার কনটেক্সট আলাপ করেছিলাম সম্প্রতি সুবিচারের পাঠচক্রে । অসংখ্য ধন্যবাদ Md Saneequdrat Saqeeকে যে সে আলোচনাটার একটা লিখিত ভার্সন তৈরি করে দিয়েছে । বইটার কনটেক্সটটা হচ্ছে ১৯৮০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত। পেরু তো আমরা জানি, যেটা ল্যাটিন আমেরিকার একটি দেশ। এবং ল্যাটিন আমেরিকার অনেকগুলো দেশে তখন লেফটিস্ট গ্রুপদের সঙ্গে দেশের মিলিটারির দশকের পর দশক গৃহ-যুদ্ধ করেছে। যেমন কলম্বিয়াতে হয়েছে, আর্জেন্টিনাতে হয়েছে, চিলিতে হয়েছে—এইরকম অনেক দেশে হয়েছে।

কিন্তু এখানে যেটা হয়েছে, খুব ইন্টারেস্টিংলি পেরুর কেসটা একটু ডিফারেন্ট কম্পেয়ার টু দা আদার কান্ট্রিস। অর্থাৎ এখানে যারা ভিক্টিম—৯০ শতাংশের মতো ভিক্টিম—তারা জনসংখ্যার খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ, যাদের ভাষাও স্প্যানিশ না। ফলে তারা একটা মাইনরিটি গ্রুপ। তাদের ভেহিকুলার ল্যাঙ্গুয়েজ রাষ্ট্রীয় ভাষাও না। এবং তাদের একটি বড় অংশ ইলিটারেট।

উনি কিছু কনটেক্সট আলাপ করেছেন। উনি বলছেন, পেরুর প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করে। আর গ্রামে যারা দূরের এলাকায় কৃষক, তাদের সংখ্যা ২০–২৫ শতাংশের মতো। কিন্তু যারা গুমের শিকার হয়েছে বা মারা গেছে, তাদের ৭০ শতাংশের বেশি আসলে ফার্মার। ফলে এটা একটি নির্দিষ্ট ক্লাসকে টার্গেট করে করা সহিংসতা।

আমি কেন এই জিনিসটা বারবার বলতেছি—বাংলাদেশে আমরা যখন গুমের ভিক্টিমদের কথা বলি, তখন অনেক সময় দেখি যে ভিক্টিমরা মেইনস্ট্রিম সোসাইটি থেকেও এসেছে। যেমন আমরা দেখেছি—মুবাশার হাসানের গুমের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে গুমের বিষয়টি পাবলিক স্পেসে খুব বেশি আলোচিতই ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশে যে গুমের ঘটনাগুলো ঘটেছে বা অন্যান্য যে সহিংসতার ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলো খুবই অসমভাবে একটি নির্দিষ্ট সেকশনের ওপর পড়েছে। পেরুতে যেমন কমিউনিজমের প্রশ্ন ছিল, এখানে ইসলামিজমের একটা প্রশ্ন ছিল—এটা নিয়ে পরে বিস্তারিত আলাপ করব।

সেই কনটেক্সটে দেখা যায়, পেরুতে একটি বড় সংখ্যক মানুষ কমিউনিস্ট ছিল এবং তারা খুব ব্রুটালি টার্গেটেড হয়েছে—টর্চার করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। ২০০০ সালের পরে সেখানে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তারা একটি ট্রুথ কমিশন গঠন করে। তাদের ট্রুথ কমিশনটাকে সারা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী চার-পাঁচটি ট্রুথ কমিশনের একটি বলা হয়।

কিন্তু ভেরি ইন্টারেস্টিংলি এই বইটার এথনোগ্রাফি দেখায় যে ট্রুথ কমিশনের মধ্য দিয়ে তারা ইনভেস্টিগেট করে এবং ফাইন্ড করে যে ৬৯ হাজারের বেশি মানুষ—লোকাল ফার্মার এবং সাধারণ জনগোষ্ঠী—এই সহিংসতার শিকার হয়েছে। সেখানে “Shining Path” নামে একটি মাওবাদী গেরিলা সংগঠন ছিল, এবং Tupac Amaru Revolutionary Movement নামেও আরেকটি সংগঠন ছিল।

কিন্তু ট্রুথ কমিশনের ফাইন্ডিংস খুব ইন্টারেস্টিং। তারা বলেছে—হ্যাঁ, ভয়াবহ সহিংসতা হয়েছে, অসংখ্য মানুষ মারা গেছে, আমরা খুব দুঃখিত, আমরা ভিক্টিমদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু একই সঙ্গে তারা পুরো সহিংসতার ঘটনাকে এমনভাবে ফ্রেম করেছে যেন Shining Path-এর গেরিলারাই মূলত রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ইনস্টিগেট করেছিল।

এই জায়গাটাই লেখক খুব গভীরভাবে আনফোল্ড করেছেন। তিনি দেখাচ্ছেন—এত ভয়াবহ সহিংসতা হয়েছে, এত মানুষ মারা গেছে; কিন্তু রাষ্ট্র তার নিজের পূর্ব অপরাধের ইতিহাসকে ফোরক্লোজ করছে। রাষ্ট্র এমন একটি বয়ান তৈরি করছে যা তার জন্য সুবিধাজনক—যেখানে ভিক্টিমদের জন্য সহানুভূতি আছে, কিন্তু রাষ্ট্র নিজে দায় নিচ্ছে না।

এই যে ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে আমরা যেভাবে দেখি—বড় আকারের রাষ্ট্রীয় সহিংসতার ঘটনাগুলো—আমরা প্রায়ই ইতিহাসকে ফোরক্লোজ করি। আমরা পিছনে কি কারণ ছিল, কারা জড়িত ছিল—এই প্রশ্নগুলোকে এড়িয়ে যাই। বরং আমরা খুব সহানুভূতিশীল ভাষায় বলি—ভিক্টিমদের ক্ষতিপূরণ দাও, স্মৃতিস্তম্ভ বানাও, এই করো, সেই করো—এভাবে বিষয়টা মীমাংসা করে ফেলি।

এই জায়গাটাকে লেখক প্রথমে এড্রেস করেছেন। এটা চার নম্বর পেইজে আছে—খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এরপর লেখক যে কাজটি করেছেন, তা হচ্ছে পলিটিক্স এবং ন্যাক্রোপলিটিক্সের প্রশ্ন। আপনারা অনেকেই Achille Mbembe-র লেখা পড়েছেন। Mbembe বলেছিলেন—ন্যাক্রোপলিটিক্স হচ্ছে সেই ক্ষমতা যার মাধ্যমে রাষ্ট্র ঠিক করে দেয় কে বাঁচবে এবং কে মরবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রকাশ হচ্ছে—কাকে জীবিত থাকতে দেওয়া হবে এবং কাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।

তিনি দেখান—বিশেষ করে কলোনিয়াল বা কলোনিয়াল লিগ্যাসি বহন করা রাষ্ট্রগুলোতে এই ক্ষমতা খুব স্পষ্টভাবে কাজ করে।

আমরা যখন বায়োপলিটিক্সের কথা বলি—মানুষের শরীরকে ম্যানেজ করা—তখন আমরা দেখি রাষ্ট্র কিভাবে বডিকে পলিটিক্যাল অবজেক্টে পরিণত করে।

যেমন বাংলাদেশে আবু সাঈদের ঘটনার পরে আমরা দেখেছি—তার শরীরটাই এক ধরনের ব্যাটলগ্রাউন্ড হয়ে গেছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কী হবে, কে রিপোর্ট লিখবে—ডাক্তারদের ওপর চাপ—এই সবকিছু মিলিয়ে একটি মৃত শরীর রাষ্ট্র, মেডিকেল এক্সপার্ট এবং সিকিউরিটি মেকানিজমের মধ্যে একটি পলিটিক্যাল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

এখানে আরেকটি প্রশ্ন উঠে—কাদের মারা হলে সমাজে আলোচনা হয়? আমরা দেখেছি শত শত মানুষ মারা গেছে, কিন্তু আমরা তাদের নিয়ে কথা বলি না। যেন তাদের মারা যাওয়া অনিবার্য।

বাংলাদেশে এখন “হত্যাযোগ্য” শব্দটি পাবলিক স্পেসে খুব জনপ্রিয় হয়ে গেছে। অথচ এটা আসলে এনথ্রোপলজিক্যাল এবং লিগ্যাল লিটারেচারের একটি শব্দ—killable life।

Mbembe এই প্রশ্নই তুলেছেন—কারা হত্যাযোগ্য, কারা হত্যাযোগ্য না।

এই বইটিতে লেখক Mbembe-কে এপ্রিশিয়েট করেছেন। কিন্তু তিনি Mbembe-র ন্যাক্রোপলিটিক্স থেকে একটু এগিয়ে গিয়ে আরেকটি ধারণা দিয়েছেন—“Necro-Governmentality”।

তিনি বলছেন—আধুনিক রাষ্ট্র এখন সরাসরি কাউকে হত্যাযোগ্য ঘোষণা করার প্রক্রিয়ায় বদল ঘটিয়েছে। বরং রাষ্ট্র এখন গভর্নমেন্টালিটির মাধ্যমে সহিংসতাকে ম্যানেজ করে।

যেমন—রাষ্ট্র বলে: এত সহিংসতা হয়েছে, আমরা ট্রুথ কমিশন করব, আইসিটি ট্রাইব্যুনাল করব, সাক্ষ্য নেব, তদন্ত করব, ভিক্টিমদের খুঁজে বের করব।

কিন্তু বাস্তবে কি হচ্ছে? রাষ্ট্র সহিংসতাকে ম্যানেজ করছে।

ফরেনসিক অ্যানথ্রোপলজিস্ট, ডাক্তার, হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট—সবাইকে নিয়ে ডিএনএ টেস্ট করে মৃতদেহ শনাক্ত করা হচ্ছে। পরিবারকে বলা হচ্ছে—এই আপনার উত্তর, এই আপনার প্রিয়জনের দেহ।

এভাবে রাষ্ট্র সহিংসতাকে ম্যানেজ করছে।

কিন্তু এর মাধ্যমে আরেকটি জিনিস হচ্ছে—ভিক্টিম পরিবারগুলোকে লিগ্যাল সাবজেক্ট, কালচারাল সাবজেক্ট এবং মোরাল সাবজেক্ট বানানো হচ্ছে। মির্জা ফখরুল সম্প্রতি গুমের ভিক্টিমদের ভাতা দেয়ার আলাপ তুলেছেন। তাদের অর্থনিতিক সাবজেক্ট বানানো হচ্ছে ।

তারা আদালতে যাচ্ছে, ক্ষতিপূরণ চাইছে, রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচার চাইছে।

কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই মানুষগুলো কেন ভিক্টিম হলো? তাদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা কী ছিল? তারা কী ধরনের রাজনৈতিক সংগ্রাম করছিল?

এই প্রশ্নগুলো বাইপাস করা হচ্ছে।

ফলে ভিক্টিমরা হয়ে যাচ্ছে লিগ্যাল সাবজেক্ট, কালচারাল সাবজেক্ট, মোরাল সাবজেক্ট—কিন্তু পলিটিক্যাল সাবজেক্ট না।

এই জিনিসটা লেখক খুব জোর দিয়ে বলেছেন।

এবং একই জিনিস আমরা বাংলাদেশেও দেখতে পারি। জুলাইয়ে যে শত শত শহীদ এবং আহত মানুষ—তাদেরও অনেক সময় লিগ্যাল, কালচারাল এবং মোরাল সাবজেক্ট বানানো হয়। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা হয় না।

তাদের নিয়ে ডকুমেন্টারি বানাও, ছবি বানাও—কিন্তু তারা যে রাজনৈতিক ট্রান্সফরমেশন চেয়েছিল, সেই প্রশ্নটা বাইপাস করা হয়।

লেখক এটাকে পোস্ট-কনফ্লিক্ট সমাজে রাষ্ট্রের একটি কৌশল হিসেবে দেখেছেন।

এবং তিনি বলেছেন—এই প্রক্রিয়াকে বলা যায় Necro-Governmentality of Post-Conflict State।

এরপর লেখক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন—Transitional Justice-এর Secularization।

তিনি বলছেন—ট্রানজিশনাল জাস্টিসের পুরো ভাষাটা সেক্যুলার লিবারেল ল্যাঙ্গুয়েজ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যেমন evidence, rule of law, recognition—এইসব ভাষা। আর এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত মানুষেরা অনেকেই জনগণের ভাষা, বিশেষত ধর্মীয় ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন। এই বিচারের প্রক্রিয়ায় হিউম্যান রাইটসের যে ভাষা ব্যবহার করা হয়, সেটিও আসলে একটি অলরেডি এক্সিস্টিং ওয়ার্ল্ড অর্ডার বা পলিটিক্যাল অর্ডারের ভেতরেই গঠিত। এবং এই অর্ডারটি খুবই এসিমেট্রিক্যাল—এমনকি অনেক ক্ষেত্রে গভীরভাবে ডিসক্রিমিনেটারি—বিশেষ করে সেইসব জনগোষ্ঠীর প্রতি, যারা সহিংসতার শিকার হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেমন আমরা দেখতে পাই—একটি বিশাল জনগোষ্ঠী আছে যাদের আমি রিলিজিয়াস মাসেস বলতে পারি। এই পুরো জাস্টিস প্রক্রিয়ার ভেতরে তাদেরকে এমনভাবে ট্রিট করা হয় যে তারা কার্যত আউটকাস্ট হয়ে যায়।

ফলে ভিক্টিমরা যখন তাদের ধর্মীয় ভাষায় শোক প্রকাশ করতে চায়, সেই শোককে প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বাংলাদেশেও আমরা এটা দেখেছি—কমিশন, আদালতের সামনে যখন গ্রামের নারী এসে কাঁদে, তখন তাদের প্রায় ই বলা হয়, আররে চুপ কর । মনে হয় এই নারীরা কেউ আইনের পক্ষের বাদী বিবাদী। তাদের যেভাবে রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা হ্যান্ডেল, যে ল্যাঙ্গুয়েজে দেখভাল করেন—এটা একটা অসম ক্ষমতার সম্পর্ক তৈরি করে।

স্টেট অফিসিয়াল এবং ভিক্টিমদের মধ্যে সম্পর্কটা পারস্পরিক শ্রদ্ধার নয়—বরং খুবই অসম।

ফলে ভিক্টিমদের শোক, তাদের ধর্মীয় ভাষা, তাদের অভিজ্ঞতা—সবকিছুই এই জাস্টিস মেকানিজমের ভেতরে নিয়ন্ত্রিত হয়।

লেখক বলছেন—এই পুরো প্রক্রিয়াটাই এক ধরনের গভর্নমেন্টালিটি। যেখানে রাষ্ট্র সহিংসতাকে ম্যানেজ করে, শোককে নিয়ন্ত্রণ করে, এবং রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে ফোরক্লোজ করে। রাষ্ট্র অনেক সময় ধরে নেয় যে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সে-ই ভিক্টিমদের জন্য সবকিছু করছে। অথচ বাস্তবতা হলো—এই স্বজনহারা নারীরা অনেকেই ইলিটারেট হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্র কিছু করার আগেই নিজেরাই দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালিয়ে গেছে। এবং তারা এখনও সেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিষয়টা এমন না যে রাষ্ট্র তাদের উদ্ধার করছে। বরং রাষ্ট্রের উচিত তাদের এই দীর্ঘ লড়াই এবং সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেওয়া।

মির্জা ফখরুল যখন গুমের ভিক্টিমদের ক্ষতিপূরণের কথা বলছেন , বিচারের কথা বলছেন, ট্রুথ কমিশনের কথা বলছেন, সব-ই এইসব ভিক্টিমদের জন্য ঠিকাছে । তাদের ভালোভাবে রাষ্ট্র ম্যানেজ করছে, কিন্তু তাদের কে প্রথমত পলিটিকাল আকারে স্বীকৃতি দেয়ার প্রশ্ন খুব ই গুরুত্বপূর্ণ। তারা যাতে কোনমতেই রাষ্ট্রীয় ম্যানেজমেন্টের বিষয় আসয় টুল আকারে হাজির না হোন 

Categories: Uncategorized